'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসে কিশোর মানসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রকাশ করা হয়েছে, যা উদ্দীপকের আবু সাঈদের মানসিকতায়ও পাওয়া যায়।
১৯৭১ সালে পশ্চিম পাকিস্তান সরকারের আদেশে হানাদার বাহিনী পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা বাংলার বুকে চালায় তাণ্ডব। অসংখ্য মানুষকে হত্যা করে নির্বিচারে। মা-বোনের সম্ভ্রম কেড়ে নেয়। সারা দেশ জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়। বাংলার মানুষ মুখ বুজে এ অন্যায় সহ্য করেনি। যুদ্ধের মাধ্যমে এর উপযুক্ত জবাব দিয়েছে, হানাদারদের পরাজিত করে অর্জন করেছে স্বাধীনতা।
উদ্দীপকে আবু সাঈদের সাহসিকতা প্রকাশ পেয়েছে। সাঈদ কলেজে পড়ে। দেশকে শত্রুর কবল থেকে মুক্ত করার জন্য শপথ নেয়। যোগ দেয় মুক্তিযুদ্ধে। এর পর সে একের পর এক গেরিলা অপারেশন সফলভাবে পরিচালনা করে। এদিকে পাকসেনারা আবু সাঈদের গ্রামে হামলা চালায়। বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়। আর যাকে যেখানে পেয়েছে সেখানেই নির্মমভাবে হত্যা করে। স্বজন হারানোর খবর সে পায়। কিন্তু যে দমে যায় না। দেশকে শধুমুক্ত করার শপথ গ্রহণ করে। 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসে বুধাও সমান মানসিকতা প্রকাশ করে। সে অনাথ কিশোর। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে সে
কৌশলে যুদ্ধ করে। সবাই ভাবে বুধা পাগল, কিন্তু বুধা আসলে দেশের জন্য জীবন বাজি রাখতে প্রস্তুত একজন দেশপ্রেমিক। "কাকভাড়ুয়া' উপন্যাসের মূল বক্তব্য হলো কিশোর মানসিকতায় দেশপ্রেম ও ত্যাগী মনোভাব। বুধা জীবনের প্রতি টান প্রায় হারিয়ে ফেলেছিল। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের কারণে তার মধ্যে আবার জীবনবোধ জেগে ওঠে। দেশকে শত্রুমুক্ত করার দারুণ নেশা তার মধ্যে প্রবল হয়ে ওঠে। প্রাণের মায়া ত্যাগ করে বারবার শত্রুর সঙ্গে মরণখেলায় নামে। এই দেশাত্মবোধই 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের মূল বিষয়। উদ্দীপকের আবু সাঈদের চরিতেও একই বিষয় প্রকটিত।
'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসে কিশোর চেতনায় দেশপ্রেমের মাহাত্মা প্রকাশ পেয়েছে। উদ্দীপকেও আবু সাঈদের মানসিকতায় দেশপ্রেমের প্রাগলা ফুটে উঠেছে। বস্তুত চেতনায় দেশপ্রেমের প্রাবল্যই 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের মূল তাৎপর্য। সুতরাং প্রশ্নোক্ত উরিটি যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!